H#20, Road#11 (New), 32 (Old), Dhanmondi R/A, Dhaka-1209
+880-2-41020280 +880-2-41020281 +880-2-41020282 +880-2-41020283
+880-2-58152810

Latest Updates:

রানা প্লাজা ধসের ৭ বছর : কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে শ্রমিক ছাঁটাই লে-অফ বরখাস্ত না করতে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহবান

২৪ এপ্রিল ২০১৩,শতাব্দীর ভয়াবহ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে নিহত হন ১১৩৬ জন শ্রমিক, আহত হন আরও ১৯৮৬ জন। আমরা শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও মর্মবেদনা নিয়ে স্মরণ করছি নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, যার ঢেউ এসে পৌঁছেছে আমাদের দেশেও। প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবন-জীবিকা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ব্যবস্থা, শিল্প-উৎপাদন, অর্থনীতিসহ সকল কিছুর ওপর। এর ফলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমজীবী মানুষ। দেশের শিল্প-কারখানায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে এখন এক স্থবির অবস্থা চলছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সাথে জড়িত সকলের জীবিকাই আজ হুমকির সম্মুখীন। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা, শ্রমিকদের বেতন না দেয়া, ছাঁটাই কিংবা বরখাস্ত করার মত অমানবিক কাজ কোনোমতেই কাম্য নয়। অনেক কারখানায় রাষ্ট্র ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেই বেতন প্রদান ও কারখানা খোলার কথা বলে শ্রমিকদের অবর্ণনীয় পরিস্থিতিতে কারখানায় এনে আবার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে এইসকল স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন কাটছে চরম ঝুঁকিতে ও অনিশ্চয়তায়। আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে রানা প্লাজার ঘটনা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আসন্ন দূর্যোগ মোকাবেলা করা। বর্তমানে আমরা আরেকটি বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যা জাতীয়, আন্তর্জাতিকভাবে শ্রমিক, মালিক, সরকার ও অন্য সবাইকে একসাথে নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।

জাতীয় স্বার্থে সকলের ঘরে অবস্থানের ক্ষেত্রে শ্রমজীবী মানুষের জীবন রক্ষায় আমাদের আহবান:
– সরকারকে অবিলম্বে মালিক, শ্রমিক, সরকার, ক্রেতা ও দাতা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে;

– তৈরী পোশাক খাতসহ অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের উপর করোনার ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে হবে;

– রাষ্ট্র ঘোষিত সাধারণ ছুটি কিংবা লকডাউনের সুযোগ নিয়ে শ্রমিকের মজুরী কর্তন, শ্রমিক ছাঁটাই কিংবা লে-অফ ঘোষণা করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শ্রম আইনের ১২, ১৬, ২০ ও ২৬ ধারা প্রযোজ্য হবে না মর্মে সরকারী প্রজ্ঞাপন জারী করতে হবে;

– দিনমজুরধর্মী পেশাজীবীদের রেশন বা আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব সরাসরি রাষ্ট্রকেই নিতে হবে এবং আপদকালীন সময়ে সকল শ্রমিকদের জন্য রেশন কার্ডের ব্যবস্থা ও সস্তায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করতে হবে;

– আগামী ৩ মাস সকল শ্রমিকের মজুরী নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রাপ্য মজুরি, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে;

– শ্রমিকদের কাজে যোগদান, বেতন-ভাতা পরিশোধসহ যাবতীয় বিষয়ে মালিক ও সরকারের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করতে হবে। যাতে করে সিদ্ধানহীনতার কারণে আর কোন শ্রমিক ভোগান্তির শিকার না হয়;

– শ্রমিকরা কর্মাবস্থায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে;

এরকম সকল কর্মসূচির সম্পদ যোগানদাতা ও গ্যারান্টর হতে হবে রাষ্ট্রকে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের সমগ্র পরিস্থিতি ত্রিপক্ষীয় মনিটরিং সেলের অধীনে তত্ত্বাবধানের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের সহযোগিতা এবং প্রয়োজনে জাতীয়ভিত্তিক বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ থেকে অর্থ প্রত্যাহার করে আপাতত এইসকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা দরকার। মনে রাখতে হবে যে দেশ এখন চরম জরুরি অবস্থায় রয়েছে। মানুষ না বাঁচলে বৃহৎ প্রকল্পগুলোর কোন অর্থ নেই। ফলে আগে মানুষ বাঁচাতে হবে।